Latest Posts

Whatsapp এর নতুন প্রাইভেসি পলিসিতে আপনার চ্যাট সুরক্ষিত তো? জানলে আপনিও হবেন অবাক

সম্প্রতি Whatsapp এর নতুন আপডেটের মাধ্যমে জানানো হচ্ছে যে তাদের নতুন প্রাইভেসি পলিসি আপডেট করা হয়েছে। যেখানে গ্রাহক দুটি বিকল্প পাবেন নিজের ক্রিনের ওপরে। একটিতে লেখা থাকবে Accept অপর টিতে Not Now। অর্থাৎ অবশেষে গ্রাহককে বেঁছে নিতে হবে একটি বিকল্পকে। কিন্তু কি লেখা আছে এই প্রাইভেসি পলিসিতে? আজ আমরা হোয়াটস অ্যাপের প্রাইভেসি পলিসি সম্পর্কে আলোচনা করবো বিস্তারে। চলুন জানা যাক,

কি আছে নতুন প্রাইভেসি পলিসিতে?

হোয়াটস অ্যাপের নতুন প্রাইভেসি পলিসিতে বলা হয়েছে যে তারা গ্রাহকের সমস্ত তথ্য যা হোয়াটস অ্যাপ এতদিন সেভ করত তা ফেসবুকের কাছে পাঠিয়ে দেবে। যা আঘাত আনতে পারে গ্রাহকের প্রাইভেসি এর ওপরে। ফেসবুক অধীন হোয়াটস অ্যাপ এর সমস্ত তথ্য চলে যাবে ফেসবুকের কাছে। কিন্তু কেন করা হবে এমনটা? তবে কি গ্রাহকদের সমস্ত চ্যাট চলে যাবে তাদের কাছে? প্রশ্ন উঠেছে ইন্টারনেট জগতে।

তবে কি সমস্ত চ্যাট চলে যাবে ফেসবুকের কাছে?

Whatsapp কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুসারে, এই প্রশ্নের উত্তর হল ‘না’। Whatsapp জানিয়েছে যে তাদের চ্যাটগুলি সমস্ত ‘End To End encrypted’। অর্থাৎ আপনি একদিক থেকে মেসেজ করছেন যা একটি কোডের মাধ্যমে অপর পক্ষে পাঠানো হচ্ছে। Whatsapp এর বক্তব্য যে তারা এই কোড টিকে নিজেরা ডিকোড করেনা। কেবল গ্রাহক সেই মেসেজটি পেলেই মেসেজ টি ডিকোড হয়ে থাকে। অর্থাৎ প্রাইভেসি বলতে এখানে চ্যাটের কথা বলা হচ্ছেনা। তবে কি ধরণের প্রাইভেসি?

কি ধরণের প্রাইভেসি?

যখন আমরা কাউকে নিজের লোকেশন পাঠাই, তখন Whatsapp কে পার্মিশন দিই আমাদের লোকেশন ব্যবহার করার। একই ভাবে ক্যামেরা ব্যবহার করি যখন Whatsapp এর মাধ্যমে তখনও সে একই পার্মিশন পায়। এরম বহু তথ্য রয়েছে Whatsapp এর কাছে। মোবাইলের নং, নাম, ঠিকানা থেকে শুরু করে তার কাছে আছে আপনার ফোনের ইউনিক নং ও। সেই সমস্ত তথ্য ছাড়াও আপনার আপনজন এবং Contact এ থাকা বাকি মানুষদের নাম নং ও রয়েছে Whatsapp এর কাছে। অধিক গ্রাহক ভেবেছিলেন তাদের চ্যাট অসুরক্ষিত। Whatsapp বলছে তা নয়, চ্যাট সুরক্ষিত থাকবে, কিন্তু বাকি সমস্ত তথ্য চলে যাবে ফেসবুকের কাছে।

কেন পাঠানো হবে এই সমস্ত তথ্য?

English এ একটি প্রবাদ আছে, “When you are getting something free, then you are the product”। এক্ষেত্রেও ঠিক তাই। বেশির ভাগ গ্রাহকদের পক্ষে এখন Whatsapp ত্যাগ করা সম্ভব নয়। আর এখন Whatsapp ব্যবহার করেন বিশ্বের বহু মানুষ। অন্যদিকে প্রাইভেসি ইনফরমেশন তথা তথ্য চলে যাবে ফেসবুকের কাছে। আর আমরা সকলে জানি যে, প্রাইভেসি প্রোটেকশনের দিক থেকে কত বার ফেসবুককে সমস্যায় পড়তে হয়েছে। বলা বাহুল্য, এতদিন Whatsapp ছিল ফ্রি। তাদের কাছে বিশেষ কোনও মাধ্যম ছিল না রেভিনিউ জেনারেট করার। কিন্তু এইবার তথ্যগুলি ফেসবুককে দিলে তাদের হাতে আসবে একটী উপায়। ফেসবুক কাজ করে অ্যাড সিস্টেমের ওপর। অর্থাৎ এই সমস্ত কিছুর পরিবর্তে Whatsapp এ দেখতে হতে পারে অ্যাড। অর্থাৎ নিজেদের প্রাইভেসি হারিয়ে আমরা পরিবর্তে অ্যাড পাচ্ছি বলা চলে। কিন্তু এখন Whatsapp জানিয়েছে যে এখনই তারা কোনও অ্যাড আনছেনা তাদের এই অ্যাপে। কিন্তু আগামী সময়ে যদি অ্যাড আসে তবে তা গ্রাহকদের জানিয়ে দেওয়া হবে। অর্থাৎ অনুমান করা চলে যে, ভবিষ্যতে আমরা Whatsapp এ ও অ্যাড দেখতে পাব।

তবে উপায়?

উপায় একটিই। যদি আপনি Whtasapp এ থাকতে চান, অর্থাৎ Whatsapp ব্যবহার করতে চান তবে আপনাকে এই প্রাইভেসি পলিসি গ্রাহন করতে হবে। নয়তো আপনাকে ব্যবহার করতে হবে Telegram এর মতো অন্য অ্যাপ গুলি। কিন্তু তা কি এখন সম্ভব? বেশির ভাগ মানুষ Whatsapp ছাড়তে পারবেন না। ৮ তারিখের মধ্যে যদি গ্রাহক Accept না করেন, তবে তিনি ব্যবহার করতে পারবেন না Whatsapp। এটি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে Whatsapp কর্তৃপক্ষ থেকে।

Latest Posts

টেক নিউজ