মিম না, এবার রিয়েল লাইফে iPhone কেনার জন্য কিডনি বিক্রি! তারপর কি হল, জেনে নিন

আপনারা ফেসবুক জাতীয় অনলাইন মিডিয়াতে নিশ্চয়ই দেখে থাকবেন মজা করে বলা হয়, iPhone কিনতে নাকি কিডনি বিক্রি করতে হবে। এই ফোনের দাম সত্যিই অত্যন্ত বেশি, তাই বন্ধুদের মাঝখানে ইয়ার্কি ঠাট্টা করা যেতেই পারে। কিন্তু তাই বলে সত্যি সত্যি কিডনি বিক্রি করে আইফোন কেনা! এই মজাকে সত্যিতে প্রমাণ করে দেখালেন চীনের এক তরুণ। বন্ধুদের নিজেদের স্ট্যাটাস দেখানোর জন্য তিনি আইফোন কেনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। কিন্তু আইফোনের দাম অনেক, তাই অত দামের আইফোন কেনার জন্য তিনি নিজের কিডনি বিক্রি করে ফেললেন।

কিন্তু তারপরে কি হলো? জানা গেছে, এই ঘটনা গত ২০১১ সালের। সেই সময় চীনের ১৭ বছরের যুবক ওয়াং সাংকুন একটি iPhone 4 এবং iPad 2 কিন্তু এ ছিলেন। কিন্তু দাম অনেক থাকার কারণে তিনি কিনতে পারছিলেন না সেই ডিভাইস দুটি। এরপর তিনি অনলাইনে একজন অর্গান হারভেস্টারের খপ্পরে পড়েন। সেই অর্গান হারভেস্টার ওয়্যাং কে একটি কিডনির বদলে ২০,০০০ ইউয়ান ( প্রায় ২,২৭,৪০০ টাকা ) দেওয়ার কথা বলেন। এত টাকার লোভে পড়ে সহজেই হ্যাঁ করে দেন ওই বছর ১৭র যুবক। অনলাইনে সমস্ত পরিকল্পনার পরে মা-বাবাকে না জানিয়ে ওয়্যং নিজের কিডনি বিক্রি করে দেন। টাকা পেয়ে তিনি ফোন কিনেছিলেন বটে, কিন্তু পরবর্তীকালে তার সমস্যার শেষ থাকেনি। কাজটি করেছিলেন স্থানীয় হাসপাতালে দুজন চিকিৎসক। পরে জানাজানি হওয়ায় সমস্ত ঘটনা তে ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয় পুলিশের তরফ থেকে।

নয় বছর আগে ওই কিশোরকে বোঝানো হয়েছিল, বেঁচে থাকার জন্য তার একটি মাত্র কিডনি প্রয়োজন। তাই অন্য কিডনির কোন দরকার নেই। যদি একটি কিডনি বিক্রি করা যায় তাহলে সে তার সাধের আইফোন কিনতে পারবে। কিন্তু, হলো একেবারে বিপরীত। ফোন কেনা হলো বটে, কিন্তু ঘটনার কয়েক মাস পর থেকে ওই যুবকের অবশিষ্ট কিডনিতে শুরু হলো সংক্রমণ। তারপর অর্গান ফেলিওর এবং ধীরে ধীরে শরীর আরো খারাপ হওয়া শুরু হলো। একটা সময় তিনি বিছানা থেকে উঠতে পারতেন না। এখনো তার সমস্যা ঠিক হয়নি। তাকে প্রত্যেকদিন ডায়ালাইসিস করাতে হয়। রেনাল ডেফিসিয়েন্সি সহ একাধিক সমস্যা তার শরীরে বাসা বেঁধে রয়েছে।

ওই তরুণের পরিবারকে সেই সময় ৩,০০,০০০ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয়রা জানিয়েছিলেন, ওই তরুণের আইফোন কেনার শখ থাকলেও, তার পরিবারের পক্ষে iPhone কেনার সাধ্য ছিল না। এই কারণে বন্ধুদের নিজের স্ট্যাটাস দেখাতে গিয়ে এই হঠকারী কাজ করে ফেলেন ওই যুবক। যার ফল তাকে এখনো ভুগতে হচ্ছে।